Wednesday, 1 May 2019

সময় হবে শেষ
চলে যেতে হবে শেষমেশ।
ফেলে যেতে হবে হাতে রাখা কাজ।
ভুলে যেতে হবে যাকিছু মনে আছে আজ।
তাই লিখে রাখি নাম, জিনিসের দাম।
লিখে রাখি কোথায় কি তুলে রাখা আছে,
দেরাজেতে আছে কিছু চিঠি ভরা খাম।
সময়ের শেষ ভাগে পৃথিবী বিবর্ণ হবে জানি।
তাই আঁকি ঘর, আঁকি আমাদের সুখ
রঙিন ফুলের গাছ
আর চেনা অচেনা মানুষের মুখ।
শেষে চলে যেতে হবে একা।
তোমাদের সব কথা হবেনা শোনা,
হবে না আমারও বাকিটা বলা।
তবু কটাদিন তোমাদের সাথে বেঁধে বেঁধে থাকা।
আরো কিছু দিন তাই সুর ছুঁয়ে লিখে যাই গান।
মুছে দিতে চাই হিসেবের ঋণ,
আছে যত দোষ ত্রুটি, আর মান অভিমান।
পাহাড়ের দেশে, সময়ের শেষে  চলে যাই যদি।
কবিতারা তারা হয়ে যাক,
সাগরের পথে বয়ে যাক নদী।
একদিন সময় হবে শেষ,
নিবে যাবে কিছু কিছু আলো,
কেটে যাবে আবেগের রেশ।
 তোমাদের দিয়ে যাই
তাই কিছু তুলে রাখা আশা।
স্বপ্ন যাকিছু তোমাদের নিয়ে দেখা,
মুঠো ভরা বিশ্বাস আর ভালোবাসা।।

Friday, 1 February 2019

অহেতুক আশাবাদী

যখন তুমি নীল আঁচলে ঢাকো
অনতিদীর্ঘ সিঁদুরে দিগন্ত রেখা।
তখন সন্ধ্যে নামে আমার ঘরে।
আমি কাঠকয়লা জড়ো করে রাখি।
তোমার নীল আঁচলে আগুন আঁকব বলে।
সারাদিনের দাহকান্ড সেরে, নিবু নিবু চিতার
সামনে দাঁড়িয়ে আমি হাত রাখি তোমার গোধূলি মাখা হাতে।
অমনি তোমার আঁচলের নীল গাঢ় থেকে গাঢ়তর।
তুমি রাত্রি মাখো চোখে, ঢাকবে বলে
আমার গায়ের শব পোড়ানো কালো।
গভীর রাতে যখন তুমি স্বপ্ন দিয়ে জড়িয়ে রাখতে চাও,
আমি দেখি আকাশ জোড়া বিরাট শ্মশানভূমি।
তোমার শরীরে লক্ষ আলো নেভে জ্বলে
যেন নিঃশব্দে চিতায় জ্বলন্ত বিশ্ব।
তবু তুমি শান্ত একটা ভোর আনবে বলে
আলতো হাওয়ায় ঠোঁট ছুঁয়ে যাও ভালোবাসা।
আর ঘুম ভেঙে যায় আমার।
মনে হয়..
আমাদের পরিচয় অবধি ঠিক ছিল,
ভালো না বাসলেই বোধহয় হত ভালো।
যে আমি মৃত্যুর কারবারি, তাকে তুমি রোজ
সম্ভাবনার কথা বলো!?

Friday, 11 January 2019

শোক সংবাদ


আজ কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই।
ওরা আর কারো দুঃখে কাঁদে না,
ওরা দুঃখে সবাই মরে গেছে ।
বিবর্ন স্বপ্নের শব পড়ে আছে অলিতে গলিতে।
ওদের ভেঙে যাওয়ার ভয় নেই আর,
ওরা হাওয়ায় মিশে অমর হয়ে গেছে।
ওরা কোনো সবুজের প্রতিশ্রুতি দেয়নি কাউকে,
গায়নি কোনো ভালোবাসার গান,
ওরা অভিনয় জানতো না ভালো করে।
ওদের নিঃশ্বাসে ধূলো, চোখে ধোঁয়া
ওরা রঙিন পৃথিবী আঁকেনি কখনও।
 তাই আজ ওরা কেবলি বেওয়ারিশ লাশ।
ওরা কারো সুখে জ্বলে না আর,
ওরা সুখে পাথর হয়ে গেছে।
আজ শহরে আওয়াজ নেই কোনো।
আলো জ্বলেনি কারো ঘরে।
খাবার আগলে বসে নেই কেউ কারো জন্য।
জানে সবাই ওরা আসবে না আর ফিরে।
আজ গণহত্যা হয়েছে শহরে,
বাকিরা ইচ্ছামৃত্যুর পথ নিয়েছে বেছে।
আজ শহরে শীত নামবে প্রবল,
আবহাওয়া দপ্তর ঘোষণা করেছে
বেশ  কিছুদিন আগে।
কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই,
আজ শহর যেন বিরাট শ্মশানভূমি,
ওদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান নেই,
শুধু  সাক্ষী থাকে  জননী জন্মভূমি।।











Wednesday, 26 December 2018

কথা ছিল ঝরে যাওয়ার।
তাই ঠিক সময় মত গুছিয়ে নিয়েছিলে সব।
 মুখ চোখের মলিন ভাবটা যেন একটু বেশি তীব্র করে ফেলেছিলে,
সে যাক গে, মানিয়েছিল ভালো।
তোমার ঘরের ওই শেষ হয়ে আসা মোমবাতিটা,
গায়ে তোমার হালকা নেই নেই গন্ধ..
সব মিলিয়ে বেশ একটা উদাসীন দূরত্ব তৈরি করে ফেলেছিলে চারপাশে, ঠিক যেমনটা কথা ছিল।
সবই তো ঠিক ছিল, তবে চোখে কেন জল এল?
ঝরে পড়ার আগে, ঠিক আগে, হাতের বাঁধনটা শক্ত হল কেন?
কেন তবে মনে হল শেষ হতে এখনও তো সময় ঢের বাকি।
মাথাটা ভারী হয়ে আসে,
এভাবেই তো চলে যায়, এরকমই তো কথা ছিল।
তোমার ঝরে যাওয়া দেখতে দেখতে, তবু একবার বলেছিলাম - 'যেও না'।
নাঃ, এরকমটা কথা ছিল না।

Tuesday, 9 October 2018

পরিণত হচ্ছে  মন।
পরিণত হচ্ছে চিন্তা।
মাথার চুলে ধরছে পাক।
আর মুখে স্পষ্ট বয়সের ছাপ।

এখন কথাবার্তা অনেক সোজাসাপ্টা,
একটু ঝাঁঝালো যেন।
আবার কখনও নির্লিপ্ত, নিরুত্তাপ বা নির্বিকার।
আসলে পরিণত হচ্ছে মেজাজ।
শৌখিন খোলস খুলবে এবার।

পরিণত এখন সৌন্দর্য বোধ।
পরিণত সব সাধ আহ্লাদ, জমিয়ে রাখা শখ।
সময় পরিণত হল মানুষ বৃদ্ধ হওয়ার পর।
বহু কাল ধরে বহু দেশ ঘুরে স্থিতু হল যাযাবর।
এবার ইতিহাস ধূলো মেখে মেঘ হয়ে যাক।
পরিণত শরীরে বার্ধক্য এল যদি
এ সভ্যতাও তবে পরিণতি পাক।।


Monday, 8 October 2018

শেষটা হঠাৎ আসুক।
যেন মুখে লেগে থাকা স্বাদ,
গায়ে লেগে থাকা ছোঁয়া।
হুট করে যবনিকা পতন
ক্ষিদেটা যেমন বাড়িয়ে দেয় বাকিটার জন্য।
না দেখা, না জানা, না শোনা গুলো  কেমন
দলা পাকিয়ে থাকে বুকের কাছে,
শেষটা শেষের মত না হলে।
জড়িয়ে ধরার জন্য বাড়ানো হাত,
কাছে আসবে বলে এগোনো পা, আর
ভালোবাসবে বলে আলতো ঠোঁট দুটো
থমকে যায় যদি হঠাৎ,
যদি উপন্যাস লিখতে গিয়ে জীবনের
ছোটো গল্প লিখে ফেলে কেউ,
শেষটায় যদি শেষ কথাগুলো
বলে ফেলা না যায়,
তবে একটু ভালোই হয়।
একটা আফসোসের সুর সারা শরীরের রক্তে
চুঁইয়ে চুঁইয়ে বইতে থাকে।
শেষটা যদি দমকা হাওয়ায় এসে
উড়িয়ে দেয় সব, তবে মাথার ভেতর
সময়ের বিরুদ্ধে একটা প্রতিবাদী মিছিল আয়োজন করা যায়।
একটা বিষাদের রঙ লেপে দেওয়া যায়
পৃথিবীর ধূসর বিবর্ণতায়।
আকষ্মিকতার স্মৃতিতে সুখের ছাপ থাকে।
সেই সুখের ভাপে আরাম প্রিয় হচ্ছে মন।
শেষটা বরং হঠাৎ করেই আসুক ।
সারাদিন ধরে একটানা চিবিয়ে চিবিয়ে খাওয়া  চিউইং গামের মত
তোমার বিস্বাদ চোখের দিকে চেয়ে চেয়ে
আমার শেষটাকে আমি যন্ত্রনার করে যেতে চাই না।।

Wednesday, 3 October 2018

।। আদিখ্যেতা ।।

চোখের নীচে কালি
ও যে থই হারালে সই
জ্বলবি তবু পুড়বি না।।

নীলচে কাঁচের ঘুম
আর হাড় মরমর রোগ
খাবি খাবি তবু গিলবি না।।

একটা হালকা রেশম ঝাঁপি
তাতে আলগা সুতোর জোট
বৃষ্টি পড়বে তবু ভিজবি না।।

ওটা ইচ্ছেডানার পাখি
আছে বারান্দাটার টোপ
ডানা মেলবে তবু উড়বে না।।

এ এক আজব খেলাঘর
তোর রথের চাকা কই?
মাটি মাখবি খালি, কিছু গড়বি না?..